ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের তীব্র আপত্তি জানিয়ে সম্মিলিত সম্মতিপত্রসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল চালিকাশক্তি এর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাসিন্দারা জানান, প্রতিটি প্রবেশপথে নিজস্ব প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি এবং বিপুল সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির কারণে এলাকাটি সম্পূর্ণ অপরাধ ও মাদকযুক্ত।
বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এই কঠোর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। ডিএনসিসির পক্ষে এই বিশাল এলাকার নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব নয়, ফলে এখানকার রাতের নিশ্চিন্ত ঘুম আর দিনের শান্তি উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কার, মশা নিধন এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জটিল কাজগুলো ডিএনসিসির কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই সম্পন্ন করে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। বাসিন্দারা মনে করেন, রাজউকের অনুমতি অনুযায়ী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এই উন্নয়ন কার্যক্রম সোসাইটির মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সিটির অধীনে গেলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে এই সেবাগুলোর মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একজন সাধারণ বাসিন্দা বলছেন, আমরা সিটির আওতায় যেতে চাই না। এখানে সব আধুনিক সেবা বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এই মান রক্ষা করতে পারবে না। অপরাধ বেড়ে গেলে তখন এর দায় নেওয়ার কেউ থাকবে না।
বসুন্ধরা শুধু একটি আবাসিক এলাকাই নয়, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক শহর। এখানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্পোর্টস সিটি। প্রায় ৩০০ বিঘা জায়গাজুড়ে তৈরি এই স্পোর্টস সিটিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের কিংস অ্যারেনা ফুটবল স্টেডিয়াম, নির্মাণাধীন ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ইনডোর-আউটডোর পিচ, প্যাডেল টেনিস কোর্ট এবং অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলসহ ‘গোল্ডস জিম’।
রয়েছে দেশসেরা হাসপাতাল, নামী বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (যেমন: বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ)। এই বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে চলছে, তা সিটি করপোরেশনের গতানুগতিক ব্যবস্থাপনায় এলে তার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা হারাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা ডিএনসিসিকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের ওপর হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জের যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা বাসিন্দাদের জন্য এক বিশাল আর্থিক বোঝা। যেহেতু সিটি করপোরেশন এখানে কোনো সেবা প্রদান করে না, তাই এই ট্যাক্স আরোপ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং সাধারণ বাসিন্দাদের যৌথ দাবি, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন শেষ হওয়ার পূর্বপর্যন্ত সব ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত রাখতে হবে। একই সাথে, বাসিন্দাদের মানসিক স্বস্তি ও আর্থিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে। অন্যথায়, একটি পরিকল্পিত ‘গ্রিন ও স্মার্ট’ মডেল আবাসন ব্যবস্থা তার নিজস্ব জৌলুস ও নিরাপত্তা হারিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়বে।