সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার আসামিদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর নাসির উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৯৫ জন। এর মধ্যে ৭০ জন জামিনে আছেন। শেখ হাসিনাসহ ১২৫ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় মোট আসামি ১৭৮ জন। এর মধ্যে ৪১ জন জামিনে আছেন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩৭ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। দুটি মামলায় মোট ২৬২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোহানুর রহমান রঞ্জু ও আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরীসহ সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৩৭৩ নেতাকর্মীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে (৪ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু, বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ ও সুমন শেখকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোহানুর রহমান রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমি খাতুন, আব্দুল লতিফের বোন সালেহা বেগম ও একই এলাকার বিএনপি কর্মী সুমন শেখের বাবা আলী শেখ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।