গত ২ মে (শনিবার) শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে সদ্য নির্মিত একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামের কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের পথ করে দিতে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ইটের রাস্তা তৈরি করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান, শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামসহ গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে রাস্তাটি উদ্বোধন করেন।
এরপর ইউএনও মাশফিকা হোসেন বদলির পর গত শনিবার (২ মে) বিকেলে ওই রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে যায় গাড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সদস্য মো. আফসার আলীর নেতৃত্বে তার সমর্থকেরা।
এ বিষয়ে গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিউলি খাতুন জানান, সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন কয়েকটি পরিবারের চলাচলের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কয়েকদিন আগে রাস্তাটি নির্মাণ করে দেন। ওইদিন হঠাৎ করেই বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার আফসার আলীর নেতৃত্বে গাড়াদহের কিছু লোকজন এসে রাস্তার ইটগুলো তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গাড়াদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আফসার আলী মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো রাস্তার ইট তুলে নেননি। যেখানে রাস্তা করা হয়েছিল, সেটি করতোয়া ডিগ্রি কলেজের জায়গা। তিনি ওই কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, তাই কলেজের জায়গা দখলমুক্ত করতে ইটগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে কেউ আসলে তার কাছে জবাব দেবেন। সাংবাদিকের সঙ্গে এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলবেন না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে সদ্য নির্মিত রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, স্থানীয় করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী মিনা খাতুন বাঁশের বেড়া দিয়ে সেই পথ বন্ধ করে দেন। এতে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। টানা ২০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর সদ্য বিদায়ী শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফিকা হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের চলাচলের জন্য ১০ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ইটের রাস্তা নির্মাণ করে দেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা আফসার আলী তার লোকজন দিয়ে রাস্তার ইট তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে রাস্তা না থাকায় আবারও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ওই এলাকার কয়েকটি পরিবার। তারা দ্রুত রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।