শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

শাস্তি না অপমান? শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা

শাস্তি না অপমান? শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা

বগুড়ার সদর উপজেলায় তিন শিক্ষার্থীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরানোর অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি এমন প্রকাশ্য অপমান কতটা আইনসঙ্গত—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সোমবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন।

ঘটনার পটভূমি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি আমগাছ থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আম পেড়ে খায়। পরদিন প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা বেগম অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে তাদের বেত্রাঘাত করা হয়। এরপর শাস্তির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পায়ের স্যান্ডেল খুলে গলায় মালার মতো পরিয়ে দেওয়া হয় এবং ‘আমচোর’ লিখে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরানো হয়। পুরো ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিকভাবে অপমানজনক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা এমন শাস্তিকে ‘অমানবিক’ ও ‘শিশু অধিকার পরিপন্থী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
চাপের মুখে প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তবে এতে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, গত ৩ মে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন,
“ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”

আইন ও নীতিমালার প্রশ্ন
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দীর্ঘদিন ধরেই নিরুৎসাহিত। জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শাস্তির নামে অপমানমূলক আচরণ শিশুদের আত্মসম্মান ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।”

একটি আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এমন অপমানজনক শাস্তি শুধু একটি স্কুলের ঘটনা নয়—এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রয়োগের ধরন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি আরও বড় কোনো ব্যবস্থাগত সমস্যার প্রতিচ্ছবি।

আরও

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সারা দেশ

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ছাত্রদল নেতা না...

২০২৬-১০-০২ ১৭:৫৭

সাভারে ১২ লাখ টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সারা দেশ

সাভারে ১২ লাখ টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

ঢাকা জেলার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. রায়হান ইসলাম (২৮) নামে এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ...

২০২৬-১০-০২ ১৪:২৮

মাগুরায় বাড়ি স্বামীর, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর পুরুষাঙ্গ গোড়া থেকে কাটার অভিযোগ স্বজনের

সারা দেশ

মাগুরায় বাড়ি স্বামীর, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর পুরুষাঙ্গ গোড়া থেকে কাটার অভিযোগ স্বজনের

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের আজমপুর নতুনপাড়া গ্রামের আবেদ হাসান জয়, গাজীপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় আছে। আবেদ হোসেন জ...

২০২৬-১০-০১ ২৩:০৪