জাকার্তা সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল। একতরফা আচরণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বৈশ্বিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও জানান, দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা, রেল পরিবহন, সবুজ জ্বালানি, স্যাটেলাইট এবং মৎস্য খাতে সহযোগিতা বাড়াবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো তার দেশের জোটনিরপেক্ষ এবং স্বাধীন ও সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাকার্তা যেমন চীনের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে।
প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শাফরি শামসুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ইন্দোনেশিয়ায় একটি যৌথ গোলাবারুদ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে। সেখানে বুলেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট তৈরি করা হবে এবং চীনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ কারখানা চালু হতে পারে।
এর আগে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দোং জুন জাকার্তায় পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। তিনি বলেন, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনেক বিস্তৃত এবং তা আগের চেয়ে উচ্চমানের হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াও জানায়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া ও সামরিক কর্মকর্তাদের সফর বাড়ানো হবে।
সম্পদের দিক থেকে সমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ নিকেল, তামা, সোনা ও কয়লা রপ্তানিকারকদের একটি। দেশটির নিকেল প্রক্রিয়াকরণ খাতে চীনা বিনিয়োগের প্রভাব রয়েছে, যা ব্যাটারি ও ইস্পাত শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি চীনা বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে। তবে সম্প্রতি কর নীতি ও খনিজ উত্তোলনের নতুন কিছু নিয়মনীতি নিয়ে চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কিছুটা টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে।