হিলির পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন সরকার বাড়তি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চাহিদা এবং সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো প্রকাশ করা হয়নি বহু প্রতীক্ষিত ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’। মূলত অর্থায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণেই পরিকল্পনাটি বিলম্বিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশটির জলসীমার কাছে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার কারণে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ানো জরুরি। তবে উচ্চ ঋণ ও দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ করের চাপ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পদত্যাগপত্রে হিলি বলেন, বর্তমান হুমকির মুখে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, সরকার তা দিতে সক্ষম হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমিত বাজেটের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যা সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষাশিল্পও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য সরকারের সুস্পষ্ট অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভূমিকা কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, আগামী ৭ জুলাই ন্যাটো সম্মেলনের আগেই প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।