দুটি ছবির সূত্র ধরে তার এই স্মৃতিচারণ নেটিজেনদের আবেগতাড়িত করেছে।
কলকাতার দাঙ্গা থেকে দেশভাগের দহন
শামারুহ জানান, তার দাদা একসময় কলকাতার দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। চোখের সামনে মানুষকে মানুষের গলা কাটতে দেখে ল-পড়া (আইন শিক্ষা) মাঝপথেই ছেড়ে দিয়ে ঘরে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর দেশভাগের অমোঘ নিয়তিতে তৈরি হয় পূর্ব পাকিস্তান।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শামারুহ মির্জার আব্বু এবং তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যান। পরবর্তীতে তারা পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখেন এবং তাতে অংশ নেন। যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে পুরো পরিবারকে আবারও ঘর ছাড়তে হয়।
ভাগ্যচক্রে তারা আশ্রয় নেন সেই ভারতেই, যেখানে বহু হিন্দু পরিবার তাদের বাড়িয়ে দিয়েছিল সহযোগিতার হাত। তবে যুদ্ধ শেষে যখন তারা নিজের ঘরে ফেরেন, ততক্ষণে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।
লেখিকার মা হলেন একজন ভারতীয় বাঙালি মুসলমান। ফলে শামারুহ মির্জার পারিবারিক ইতিহাসের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ— দুই বাংলারই মাটির সঙ্গে।
ফেসবুকের পাতায় শামারুহ মির্জার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর পারিবারিক আখ্যানটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সীমানা বদলে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনের লড়াই, স্মৃতি এবং মানবিকতার গল্পগুলো আজও কতটা এক ও অবিচ্ছেদ্য।