কাবা শরিফের ওপরের স্তর নির্মাণের সময় হজরত ইব্রাহিম (আ.) একটি বড় পাথরের ওপর দাঁড়াতেন। নির্মাণের সুবিধার্থে পাথরটি তার প্রয়োজন অনুযায়ী নড়াচড়া করত। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পাথরটি কাবার পূর্ব দেয়ালের কাছে বাইরে রাখা হয়। পাথরটির উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার। এর ওপর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পায়ের যে দুটি ছাপ রয়েছে, তার একটির গভীরতা ১০ সেন্টিমিটার এবং অন্যটির ৯ সেন্টিমিটার।
মাকামে ইব্রাহিম সম্পর্কে ৯টি চমকপ্রদ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বর্তমানে মাকামে ইব্রাহিম কাবা শরিফের প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনে অবস্থিত।
২. মাকামে ইব্রাহিম একটি অলৌকিক পাথর। কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন এর ওপর দাঁড়াতেন, তখন পাথরটি নরম হয়ে যেত এবং তার পায়ের ছাপ সেখানে বসে যেত। কয়েকশ বছর পার হয়ে গেলেও আজও সেই পদচিহ্ন পাথরের গায়ে দৃশ্যমান।
৩. কাবা শরিফ নির্মাণ শেষে এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়েই হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর উদ্দেশে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই স্মৃতি রক্ষার্থেই বর্তমানে তাওয়াফের সাত চক্কর শেষ করে এই স্থানে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করা হয়।
৪. খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে পাথরটিকে কিছুটা পূর্ব দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাওয়াফকারীদের ভিড় এড়াতে এবং যারা নামাজ পড়ছেন তাদের সুবিধার্থেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
৫. পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই স্থানে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।
৬.এই পাথরটি জান্নাত থেকে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। জান্নাত থেকে আসা আরেকটি পাথর হলো হাজরে আসওয়াদ।
৭. দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মাকামে ইব্রাহিম অত্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে। ইতিহাসের বিভিন্ন চড়াই-উতরাই ও শত্রুর হাত থেকে এই পাথরটির অক্ষত থাকা আল্লাহর এক বিশেষ কুদরত বা নিদর্শন।
৮. বর্তমানে মাকামে ইব্রাহিম একটি কাঁচের আবরণের ভেতর রাখা হয়েছে। বিশিষ্ট আলেম শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.)-এর মতে, পাথরের ওপর বর্তমানে যে পায়ের ছাপের প্যাটার্ন দেখা যায়, তা মূলত স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত। প্রকৃত পদচিহ্ন কালের বিবর্তনে অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এটি এখন মূলত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর স্থানটি চিহ্নিত করার জন্য প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
৯. হাজিদের সুবিধার্থে এবং ভিড় সামলাতে বর্তমানে মাকামে ইব্রাহিমের চারপাশ ঘিরে একটি সোনালি ধাতব বেষ্টনী ও স্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, যাতে দূর থেকেই ইবাদতকারীরা পাথরটি দেখতে পারেন।