বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় জটাধারী বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের দলবদ্ধ অবস্থান। কেউ গাইছেন মারফতি গান, কেউ জারি-সারি কিংবা মুর্শিদি গানে মাতিয়ে তুলছেন আসর। বাদ্যের তালে তালে আধ্যাত্মিক আবহে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই কয়েকদিন আগে থেকেই অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে অবস্থান করছেন মেলা প্রাঙ্গণে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা হাবিবুর রহমান হাবিব ফকির বলেন, “গুরুকে ভক্তি জানাতে ও আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা দল বেঁধে এখানে এসেছি। এই উৎসবে ভারত থেকেও সাধু-সন্ন্যাসীরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এখানে এসেছেন।”
শুধু আধ্যাত্মিক আয়োজনই নয়, মেলাকে ঘিরে জমে উঠেছে বিশাল লোকজ বাণিজ্যও। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, মিষ্টি, কটকটি, গৃহস্থালি সামগ্রী ও নানা লোকজ পণ্য। শিশুদের কোলাহল আর ক্রেতাদের ভিড়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই একদিনেই মহাস্থানে কয়েক কোটি টাকার কটকটি ও অন্যান্য পণ্যের বেচাকেনা হয়।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই বৈশাখী মেলা এখন শুধু ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক আয়োজন নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ লোকজ সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই এই উৎসব ঘিরে মহাস্থানে সৃষ্টি হয় ভিন্ন এক আবহ, যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন প্রত্যক্ষ করেন লাখো মানুষ।