বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্বমঞ্চে ৫ দফার এক জরুরি ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা পেশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক ফেরা এবং এই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
সংকট সমাধানে নিজের সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমি পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখতে চাই।
উপস্থাপিত প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল।
প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি জানান, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় আশ্রয়দাতাদের মানবিক সহযোগিতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলা বিনোদন চাকরি
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যে ৫ প্রস্তাব রাখলেন প্রধানমন্ত্রী
Advertisement
আরও দেখুন
অর্থনীতি বিশ্লেষণ

যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
-6ab40fe1253aa.jpg)
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফলো করুন | |
Advertisement
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
Advertisement
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্বমঞ্চে ৫ দফার এক জরুরি ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা পেশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক ফেরা এবং এই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
সংকট সমাধানে নিজের সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমি পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখতে চাই।
উপস্থাপিত প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল।
প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি জানান, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় আশ্রয়দাতাদের মানবিক সহযোগিতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
চতুর্থ প্রস্তাবে বিচার ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্থান পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করি, যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা দিতে হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সবশেষে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকিগুলো মোকাবেলায় পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
বাস্তুচ্যুত এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া সার্বিক চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্বনেতাদের দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।