পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের নাইল্যাছড়ি এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম এবং একই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটি প্রথমে ওই নারীর দেবর, নাইল্যাছড়ি এলাকার মৃত এনায়েত উল্যার ছেলে মিলনের হাতে আসে। পরে ভিডিওটি প্রবাসে থাকা তার বড় ভাইয়ের কাছে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে ‘সিএইচটি নিউজ’ নামে একটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর পরিবারে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মিলন এবং ‘সিএইচটি নিউজ’ নামের ফেক ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত কাউখালী থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার নোমান কলেজ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মিলনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মিলনকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই নারীকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দিয়ে তার মানহানি করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটি একটি নিন্দনীয় ঘটনা। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় পুরো পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে।