বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

সরকারের জিরো টলারেন্স

পুনর্বাসন সংকটে বাড়ছে সাবেক বনদস্যুদের ফের বনে যাওয়ার শঙ্কা

পুনর্বাসন সংকটে বাড়ছে সাবেক বনদস্যুদের ফের বনে যাওয়ার শঙ্কা

সাব্বির শেখ ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনে। তিনি ১৬ বছর ধরে দাপিয়ে বেরিয়েছে সুন্দরবন জুড়ে। জুলফিকার বাহিনীর সঙ্গে দস্যুতা করতেন। স্বাভাবিক জীবনের আশায় ফিরে আসেন ওই পথ থেকে। কিন্তু নতুন জীবন দিন দিন তার কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে জানান বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলার পঞ্চাশোর্ধ সাব্বির শেখ।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে ডাকাতিতে টাকার অভাব ছিল না, কিন্তু শান্তির অভাব ছিল অনেক। মৃত্যু ঝুঁকি ও অভিযানে ধরা পড়ার ভয় দিনরাত তাকে তাড়া করে বেড়াতো। অবৈধ এই টাকাতে পরিবারও শান্তিতে ছিল না। গ্রামের লোকদের কটু কথা শুনে দিনযাপন করতে হতো।  

সেই জীবনের স্মৃতিচারণ করে সাব্বির আরও বলেন, আমি জুলফিকার বাহিনীর ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলাম। মামলা মোকদ্দমা উঠিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও বলে, নতুন জীবনের আশায় আমরা আত্মসমর্পণ করি। কিন্তু এখনো আমার নামে তিনটি মামলা রয়েছে। পুনর্বাসনের যে ব্যবস্থা করেছে তাও পর্যাপ্ত না। মামলা ঠেকাতে বাপের শেষ স্মৃতি ছিল একটু জমি সেটুকু বিক্রি করে দিয়েছি। তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। তার মতে, পেটের ক্ষুধা আর মামলার যন্ত্রণায় আত্মসমর্পণকারী অনেক বনদস্যুই আবার ফিরছেন বনে।

বন বিভাগ জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে। ৩২৮ জন দস্যু ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫৯৩টি গুলিসহ মোট ৩২টি দস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। 

তবে আবারো আত্মসমর্পণকারী দস্যু দলগুলো ভয়ংকর রূপে ফিরছে সুন্দরবনে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা মতে, আত্মসমর্পণকারী দস্যুর সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস থাকলেও তারা সেটি পুরোপুরি পাচ্ছেন না বলেই, আবারও পুরনো পেশায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। 

বনদস্যু কামাল শিকারী বলেন, ২০১৮ সালে আমি আত্মসমর্পণ করি। সরকার তিন মাসের মধ্যে আমাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার কথা বলে। সেই আশ্বাসে আমরা র‍্যাব-৬ এর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কিছু মামলা নিষ্পত্তি করেছে। আমার মামলা এখনো রয়েছে। কোর্টে হাজিরা দিতে দিতে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার। আমার এই মামলায় অনেক টাকা চলে যায়, এখন আমার সংসার চালাতেই পারছি না। অনেকেই এই সমস্যার জন্য সুন্দরবনে ডাকাতি করতে নেমে গিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমার যতই কষ্ট হোক সুন্দরবনে আর যাব না। নতুন সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমার মামলা নিষ্পত্তি করে দিক। আমার পরিবারকে নিয়ে আমি সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে চাই। 

আত্মসমর্পণকারী আর একজন বনদস্যু মো. সোলাইমান বলেন, তিন মাসের মধ্যে সব মামলা ক্লোজ করে দেওয়া হবে সরকারি অর্থায়নে। কিন্তু তার কিছুই হয়নি। মামলা ওঠানোর তো নাম নেই, নিজের টাকায় চালিয়ে নিতে হচ্ছে। সরকার আমাদের আশায় গিয়েছিলাম স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর কোনো সমস্যা হলে সহযোগিতা করবে কিন্তু তার কিছুই পাইনি আমি। পরের জমিতে কাজ করে ৫০০ টাকা ইনকাম করে মামলা চালানো আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। যারা আবার সুন্দরবনে গিয়েছে তাদের হয়তো আমার থেকেও বেশি মামলার চাপ ছিল। ১২ বছর বয়সে আমি সুন্দরবনে যাই। সাত আট বছরের মতো সেখানে ছিলাম। বনের জীবন খুবই ভয়ংকর ও কষ্টকর। এখন যারা সুন্দরবনে যাচ্ছে তাদের হয়তো পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। 

আজিম সরদার বলেন, একটা মামলা ছিল আমার। সেই মামলা থেকে বাঁচতে সুন্দরবন চলে যাই। এখানে এসে আমি এখন চারটা মামলার আসামি। সরকারের দয়া ছাড়া কোনোভাবেই আমাদের বাঁচার উপায় নেই। সরকার আমাদের একটা ব্যবস্থা করলে আমরা অনেকেই আত্মসমর্পণ করব।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছরে নানা ভাই, আলিফ, আসাবুর করিম, শরীফ ছোট সুমন বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।  এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার এবং ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮ থেকে ১০টি ও শতাধিক দস্যু যুক্ত রয়েছে সুন্দরবনে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করেছি। সুন্দরবন দস্যু মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকবে।  

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ২০১৮ সালে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের। স্বাভাবিক জীবনে যারা  ফিরে এসেছে, তারা যদি আমাদের কাছে সাহায্যের আবেদন করে তাহলে তাদের দাবি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করতে পারি।  মন্ত্রণালয় যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সে অনুযায়ী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অনেক বনদস্যু আমাদের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছি না। কারণ একজন অন্যায় করবে আর রাষ্ট্র বার বার তাকে সুযোগ দেবে বিষয়টা ঠিক না। বনদস্যুরা যে অপরাধ করছে তাদের হয় সেখান থেকে সরে আসতে হবে নাহয় আমাদের অভিযান মোকাবিলা করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমরা সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত করব। যাতে এই উপকূলের সাধারণ মানুষ তাদের জীবন নির্বাহ করার জন্য সুন্দরবনে যেতে পারে।

আরও

সিংড়ায় ট্রাকচাপায় ছাগল ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

সারা দেশ

সিংড়ায় ট্রাকচাপায় ছাগল ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

নাটোরের সিংড়ায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় এক ছাগল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোভ্যান চালকসহ আরও তিনজন গুরুত...

২০২৬-০৫-০৭ ১৫:০৩

টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে সবজি, রাস্তার পাশে বসেও মিলছে না ক্রেতা

সারা দেশ

টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে সবজি, রাস্তার পাশে বসেও মিলছে না ক্রেতা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হচ্ছে ফসল। ক্ষতি কমাতে বাধ্য হয়ে অপ...

২০২৬-০৫-০৭ ১২:৪০

বাগেরহাটের চিতলমারিতে জুস কেনাকে কেন্দ্র করে দোকানিকি কুপিয়ে হত্যা

সারা দেশ

বাগেরহাটের চিতলমারিতে জুস কেনাকে কেন্দ্র করে দোকানিকি কুপিয়ে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারিতে জুস ক্রয়কে কেন্দ্র করে মুজাহিদ মোল্লা (৪০) নামের দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ক্রেতা।

২০২৬-০৫-০৭ ১১:৪৯