এই জয়ের মধ্যেই সামনে এসেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার নিজ এলাকা ভবানীপুরে পরাজিত করে বড় চমক দেখিয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এই জয় তাকে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। এর আগে ২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে তিনি মমতাকে হারিয়েছিলেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুধু শুভেন্দুই নন, আরও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল—দুজনকেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অগ্নিমিত্রা পাল ইতোমধ্যে আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বেই রাজ্যে বিজেপি প্রথমবারের মতো এমন বড় সাফল্য পেয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার পাশে ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনের ফলাফলেও শুভেন্দুর অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ভবানীপুরে তিনি পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
অন্যদিকে, দলটির ভেতরে নারী নেতৃত্বকে সামনে আনার আলোচনা থাকায় অগ্নিমিত্রা পালও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। আবার সাংগঠনিক সাফল্যের কারণে শমীক ভট্টাচার্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খুব শিগগিরই নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসতে পারে বিজেপি। সেই বৈঠকের পরই পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের এই সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসছেন কে?