শনিবার (১৮ জুলাই) ফেনী শহরের এ্যাম্বিয়েন্স রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ‘বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক’ চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে এবং ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা সভাপতি জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে ও পিএফজি পরশুরাম উপজেলা অ্যাম্বাসেডর জোহরা আক্তার রুমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়ক সৈয়দ নাসির উদ্দিন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য সোমা মুৎসুদ্দি।
গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক,দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ.ন.ম আব্দুর রহিম, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি একরামুল হক ভূঁইয়া,এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন, জেএসডি ফেনী এর সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন মজুমদার সাচ্ছু, মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা।
এছাড়াও সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল ও দেশ রূপান্তরের ফেনী প্রতিনিধি শফি উল্লাহ রিপন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাছিনা আক্তার, কক্সবাজার জেলা সভাপতি শাহানা আক্তার ও কুমিল্লা জেলা সভাপতি হেলেনাজ তাহেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
যোগ্যতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর জোর বৈঠকে বক্তারা বলেন, নারীদের কেন কেবল আলাদা কোটার ওপর নির্ভর করতে হবে? নিজেদের চেষ্টা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। সমাজ ও রাজনীতির বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতে নারীদের নিজেদেরই সবার আগে উদ্যোগী হতে হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার যেমন পরিবর্তন প্রয়োজন, তেমনি নারীদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কোনো বাবা বা স্বামীর পরিচয়ে নয়, বরং নিজস্ব যোগ্যতায় নারীদের নেতৃত্বে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিবারভিত্তিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংস্কৃতি পরিহার করে তৃণমূলের যোগ্য নারী কর্মীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তারা নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে বলেন, নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখালেও নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় রাজনীতি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে এগিয়ে আসতে পারছে না। তাই রাষ্ট্র ও সমাজকে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সাধারণ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সাধারণ আসনে নির্বাচনে নারীদের কোনো আইনি বাধা নেই, প্রয়োজন শুধু সাহস ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া।