ইয়াহু ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ জুন স্পেসএক্স তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্ন করে। এর তিন দিন পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য রেকর্ড ২ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। সে সময় ইলন মাস্কের কাগুজে সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
তবে ২৩ জুলাই বাজার বন্ধ হওয়ার পর ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ নেমে এসেছে প্রায় ৭৩৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ সপ্তাহেই তার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কাগুজে সম্পদ উধাও হয়েছে।
স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ জুনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে বর্তমানে প্রায় ৮৯৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণে বিলম্ব, আইপিও-পরবর্তী অতিরিক্ত মূল্যায়নের সংশোধন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে উদ্বেগ—এসব কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে টেসলার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। যদিও কোম্পানিটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রাজস্ব এবং রেকর্ডসংখ্যক গাড়ি সরবরাহ করেছে, তবুও মুনাফা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম ছিল। পাশাপাশি পরিচালন আয় কমে যাওয়া, ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হওয়ায় টেসলার শেয়ারেও বড় পতন দেখা যায়।
২৩ জুলাই টেসলার শেয়ারের দাম একদিনেই ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে যায়। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।
বড় ধরনের সম্পদ হারালেও ইলন মাস্ক এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ধনকুবেরের তুলনায় তার সম্পদ এখনও প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন ডলার বেশি।