সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী, তপনবাগ গ্রামের অন্তত এক কিলোমিটারব্যাপী ভৈরবের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখহাটী বাজার রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙ্গনের কবলে পড়ার ফলে জেলার ঐতিহ্যবাহী এ ব্যবসা কেন্দ্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
তিব্র ভাঙ্গনে ক্রমাগত নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে জনবসতি, কবরস্থান, গাছপালা, বাগবাগিচা, স্থাপনা। সহায় সম্পদ হারিয়ে বিপর্যস্ত এলাকাবাসী সর্বগ্রাসী ভাঙ্গন রোধের দাবিতে মানববন্ধন করছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবরে ভুক্তভোগী নারী পুরুষ নির্বিশেষে নদী তীরে সমবেত হয়ে সামিল হন এ মানববন্ধনে। এলাকাবাসী জানায়, শেখহাটী, তপনবাগ গ্রাম জুড়ে কয়েক দশকের অব্যাহত ভাঙ্গন বিগত ৫বছর যাবত তিব্র আকার নিয়েছে।
বর্ষা এলেই পানি প্রবাহের ব্যাপকতায় ক্ষিপ্র গতি পায় ভৈরবের স্রোতোধারা, আগ্রাসী রূপ নেয় ভাঙ্গন পরিস্থিতি, গ্রাস করতে থাকে নদী তীরবর্তী সবকিছু। ভাঙ্গনের কবলে সেখহাটী বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের শতাধিক দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাজারের অন্য প্রান্তে সরিয়ে নিয়ে বাধ্য হয়েছেন। দুই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে এ বাজার রক্ষায় অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এ অবস্থায় জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে দুইশো বছরের পুরোনো জেলার ঐতিহ্যবাহী এ ব্যবসা কেন্দ্রটি।
ভাঙ্গনের কবলে গ্রামের অনেকে তাদের ঘরদরজা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এখনই ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে অচিরেই গ্রামের কবরস্থান নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে মৃতদেহ কবরস্থ করার মতো কোনো জায়গা গ্রামে অবশিষ্ট থাকবে না বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে, ভৈরব নদীর ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইল পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী অভিজীৎ কুামার সাহা বলেন, ভৈরব নদীর ভাঙ্গন পরিস্থিতি অবনতির ব্যাপারে খবর পেয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।