বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে উপজেলার কালুকান্দর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নূর আলম মোল্লা উপজেলার গোবিরাকুড়ি গ্রামের মৃত নুরুন্নবী মোল্লার ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পোরশা থানাধীন তুড়িপাড়া গ্রামস্থ ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি আম বাগানে আসামি নূর আলম প্রতিদিন ভেড়া চড়াতে আসতেন। ভুক্তভোগী শিশুটি প্রায় সময়ই ওই আম বাগানের পাশে খেলাধুলা করতে যেত। বাগানটিতে একটি ছোট কাঠের চৌকি ছিল এবং আসামি নূর আলম প্রায়ই তার মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ছবি ভুক্তভোগী শিশুকে দেখানোর প্রলোভন দেখাতেন।
গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২:০০ ঘটিকার সময় আসামি নূর আলম মোবাইল ফোনে ছবি দেখানোর কথা বলে ওই শিশুকে ফুসলিয়ে আম বাগানের ভেতরে থাকা কাঠের চৌকির ওপর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে তার পরিবারকে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। ঘটনার পর থেকেই আসামি নূর আলম এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার, শিশু নির্যাতনকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সার্কেল এএসপি এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পোরশা থানাকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পোরশা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:১০ ঘটিকায় পোরশা থানাধীন কালুকান্দর গ্রামের হামিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি থেকে পলাতক আসামি মোঃ নূর আলম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে পোরশা থানা পুলিশ জানায়, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সমাজ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।