রোববার (২৪ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া শহরের কলোনী বাজার এলাকার লতিফপুরের মন্ডল হাউজের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ কবির নামের এক ব্যক্তি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই “ভরসা বাজার”, “নর্থ ফুড” ও “আশ-শিফা” নামে তিনটি অনলাইন পেইজ পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব পেইজের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম, কসমেটিকস, লিপবাম ও আয়ুর্বেদিক পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল—“আশ-শিফা প্লাস” নামে একটি ব্যথানাশক তেল তৈরি ও বিক্রি। তদন্তে দেখা যায়, এটি বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় “আশ-শিফা” ব্র্যান্ডের নকল সংস্করণ। অথচ পণ্যটি উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ছিল না বিএসটিআইয়ের অনুমোদন, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিবন্ধন কিংবা কোনো বৈধ লাইসেন্স।
অভিযানকালে আরও জানা যায়, স্থানীয় বাজার থেকে কমদামি বিভিন্ন ক্রিম সংগ্রহ করে সেগুলোতে নিজেদের লেবেল লাগিয়ে “অথেনটিক” বা আসল পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত হচ্ছিলেন সাধারণ ভোক্তারা।
ভোক্তা অধিকার আইনে অপরাধের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে নকল “আশ-শিফা প্লাস” তেল জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। ভবিষ্যতে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের উৎপাদন বা বিপণন না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
অভিযানে সহযোগিতা করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া। এছাড়া র্যাব-১২ ও জেলা পুলিশের দুটি টিম সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তায় অংশ নেয়।