রবিবার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই লিখেন, আজ বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। বিদ্রোহী কবীর চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্র, সরকার ও সর্বস্তরের মানুষ জানিয়েছেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। একইসঙ্গে তিনি কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো, দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। তিনি উল্লেখ করেন, মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে তুলে সচেতন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার প্রয়োজন হয়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।
প্রধানমন্ত্রী কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকে ‘এক যুদ্ধ ঘোষণা ও অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে-সর্বোপরি সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তাঁর চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি। তিনিই আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক, যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি কবির দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার তুলনাহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলামকে অন্যতম প্রধান দিশারি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তিনি যোগ করেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরুল ইসলাম আমাদের প্রধান পাথেয় এবং তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর কবিতা ও গান ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস। আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি নজরুলকে ‘জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও তিনি সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত, মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি ও জাতীয় চেতনার প্রতীক তিনিই। তিনি আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।
জাতীয় কবির জন্মদিনে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।