প্রথম ঘটনায়, নেত্রকোনা পৌর শহরের উত্তর কাটলী এলাকায় নিজ বাড়ির খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগম চায়না (৪৮) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী আবু চান (৬০) ও ছেলে মুন্না (২৫)। আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে মুন্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে মনোয়ারা বেগম, তার স্বামী ও ছেলে ছিলেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামী ও ছেলেকে উদ্ধার করা হলেও গৃহবধূকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রতিবেশী রিকশাচালক আব্দুর রশীদ (৩৪) নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে স্থানীয়দের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বামনীকোনা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মোস্তফা আমীর ফয়সাল (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং নেত্রকোনা আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গান-বাজনা ও ফটো-ভিডিও ধারণ চলছিল। এ সময় ফয়সালের চাচাতো ভাই রবিন কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে অনুষ্ঠানে গেলে তাদের চলে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ফয়সাল, রবিন হাসান, আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (সৌরভ) ও সাদেকুল ইসলাম আহত হন।
আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ফয়সাল ও সাদেকুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে ফয়সালের মৃত্যু হয়।
আহত রবিন হাসানের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ফয়সালের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর শাহজাহান মিয়া (৫৫) নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ফয়সাল নিহত হয়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার এবং নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনার ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।