মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ফরিদ আহম্মেদ। তিনি জানান, তদন্তে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে—রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, লোকোমাস্টার (চালক) এবং স্টেশন মাস্টার।
তদন্ত অনুযায়ী, যেখানে রেললাইনে কাজ চলছিল, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন মাস্টারের পক্ষ থেকে ‘অর্ডার ওপিটি ফর্ম’ ইস্যু করা হয়নি। এই ফর্ম থাকলে চালক আগে থেকেই জানতে পারতেন যে সামনে কাজ চলছে এবং গতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন। রেললাইনে কাজ চলার সময় সতর্ক সংকেত হিসেবে ফ্ল্যাগ ব্যবহার করা হলেও সেটি নির্ধারিত দূরত্বে ছিল না। ফলে চালকের জন্য তা যথাসময়ে দৃশ্যমান হয়নি। জিএম ফরিদ আহম্মেদের ভাষায়, “লোকোমাস্টারের সতর্ক থাকার দায়িত্ব থাকলেও যথাযথ সংকেত না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।”
গত ১৮ মার্চ দুপুরে ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচলকারী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পর বাগবাড়ি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং অন্তত ১১২ জন আহত হন। এর মধ্যে ২২ জনকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা-রাজশাহী রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং সাতটি ট্রেনের সময়সূচি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মেরামত শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার দিনই পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করা হয়। গত ২৯ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আলাদা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
একটি ট্রেন দুর্ঘটনা, শতাধিক আহত এবং দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তিন স্তরের গাফিলতি এখন প্রশ্ন তুলছে নিয়ম থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?