চলুন, তেমনই কিছু দেশের নাম জেনে নেয়া যাক-
জর্ডান
জর্ডান দেশের নাম সরাসরি জর্ডান নদী থেকে এসেছে। ব্রিটিশ শাসনামলে নদীর পূর্বাঞ্চল ‘ট্রান্সজর্ডান’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পরও এই নাম ব্যবহৃত হয়। ১৯৪৯ সালে রাষ্ট্রটির নাম পরিবর্তন করে জর্ডান রাখা হয়।
ভারত
ভারতের ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়া’র উৎস সিন্ধু নদী। প্রাচীন পারসিক ভাষায় সিন্ধু শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘হিন্দু’ রূপ নেয়। গ্রিকরা সেই নাম থেকে ‘ইন্ডোস’ ও ‘ইন্ডিয়া’ ব্যবহার শুরু করে। পরে ইউরোপীয় ভাষার মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া’ নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
নাইজার
নাইজার দেশের নাম এসেছে নাইজার নদী থেকে। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনে অঞ্চলটি ‘নাইজার ভূখণ্ড’ এবং পরে ‘নাইজার উপনিবেশ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর নদীর নামটিই রাষ্ট্রের নাম হিসেবে থেকে যায়।
নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ার নামও নাইজার নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখিকা ফ্লোরা শ নাইজার নামের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ করে ‘নাইজেরিয়া’ নামটি প্রস্তাব করেন। ১৯১৪ সালে উত্তর ও দক্ষিণ নাইজেরিয়া একীভূত হলে নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সেনেগাল
সেনেগাল দেশের নাম এসেছে সেনেগাল নদী থেকে। নদীটির নাম ধীরে ধীরে নদীসংলগ্ন বৃহত্তর অঞ্চলের পরিচয়ে পরিণত হয়। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর সেই নামই দেশের নাম হিসেবে বহাল থাকে।
গাম্বিয়া
গাম্বিয়ার নাম এসেছে দেশটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গাম্বিয়া নদী থেকে। ইউরোপীয় নাবিকদের পুরোনো নথিতেও নদীটির নাম পাওয়া যায়। ১৯৬৫ সালে স্বাধীন হওয়ার সময় দেশটির সরকারি নাম হয় ‘দ্য গাম্বিয়া’।
জাম্বিয়া
জাম্বিয়ার নামের উৎস জাম্বেজি নদী। ব্রিটিশ শাসনামলে অঞ্চলটি ‘নর্দার্ন রোডেশিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার সময় ঔপনিবেশিক নাম বাদ দিয়ে নদী থেকে সম্পর্কিত ‘জাম্বিয়া’ নামটি গ্রহণ করা হয়।
ক্যামেরুন
ক্যামেরুনের নামের উৎস উওরি নদী। পর্তুগিজ নাবিকেরা নদীটিকে ‘রিও দোস কামারোয়েস’ (Rio dos Camarões) বা ‘চিংড়ির নদী’ নামে অভিহিত করেছিল। ‘চিংড়ির নদী’ অর্থে একটি নাম দিয়েছিল। সেই নামের পরিবর্তিত রূপ থেকেই পরবর্তীতে ক্যামেরুন নামের প্রচলন হয়।