সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে যান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তিনি নিজের এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় অফিস সহকারীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।
অফিস সহকারীর অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
ঘটনার পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা তার কার্যালয় থেকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তার দাবি, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বরং এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে পিআইও ও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সরকারি কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হুমকির অভিযোগে কোনো জিডি বা মামলা হয়েছে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই রকম পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।