বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধানের দাবিতে তার স্বজন ও গ্রামবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া চেকপোস্ট ও স্টেশনে হামলা চালায় এবং স্পিডবোট, পন্টুন অফিস ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় কোস্ট গার্ড সদস্যদের ওপর আক্রমণ হলে কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্ট গার্ড কয়েক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে কোস্ট গার্ডের ওপর হামলা-ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পেরেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তখন পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। উত্তেজিত গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেনি। তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
এদিকে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হারবারিয়া স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে এবং দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জয়মনির ঘোল দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। স্টেশন স্থাপনের ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করেছে, যাদের উদ্দেশ্য কোস্ট গার্ডকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখ (৩২) নিখোঁজ হন। তার স্বজনরা দাবি করে আসছেন- কোস্ট গার্ডের পরিচয়ে মিরাজকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তারা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এ ঘটনায় বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে কোস্ট গার্ড।