সোমবার (০১ জুন) জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, মন্ত্রীকে প্রিয় ব্যাক্তি বলতে গিয়ে ভুলক্রমে "প্রিয় নবী" বলে ফেলেছি। এ ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে নিজেও বিব্রত বলে জানান খালেক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আল্লাহর দরবারে তওবা আর ক্ষমা চাওয়া ছাড়া করার কিছু নেই। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া স্ট্যাটাসে- এটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
শনিবার দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দচয়ন গত ভুল (Slip of Tongue) করি। খালেকের পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে আওয়ামীগকে পু:নবাসের অভিযোগে বহিস্কৃত ফেনী পৌর যুবদলের সদস্যসচিব হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারি বলেন, এই সব ভূয়া সাংবাদিকদের কাজই হচ্ছে এই গুলা করা, সামনে থেকে এদের প্রতিহত করতে হবে একসাথ হয়ে। পুরা যুবদল টা শেষ করি দিছে এই সব ভূয়া সাংবাদিকরা। তার এ মন্তব্যকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উপর হুমকি বলে মনে করেন অনেকে।
এনিয়ে খালেক বলেন, তার ব্যক্তিগত বিষয়ে দলের কোন নেতাকর্মী অতি উৎসাহ দেখালে তার দায় ওই ব্যাক্তিকে নিতে হবে।
এদিকে, সোমবার বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী নিজের ফেসবুকে লিখেন ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সে কথাটি বলেছে এটা সুস্পষ্ট কুফর, আর কুফরটি 'কুফর বাওয়াহা'। কারণ সে তার কথার দ্বারা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস “আক্বিদা খাতমে নুবুওয়্যাতকে” অস্বীকার করেছে। বলেন ওই জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের কারণে সন্দেহাতীতভাবে সে কাফেরে পরিণত হয়েছে। অতিসত্বর তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করে ইসলামে ফিরে আসতে হবে।
তার আগে, ৩০ মে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম এ খালেক বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে প্রিয় নবী বলে বিতর্কের পাশাপাশি সমালোচনায় ভাসেন। তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। খালেকের এমন বক্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কুফরির সাথে তুলনা করছেন অনেকে। আর রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মতে এটি অযোগ্যতার প্রমান।
খালেকের এমন সব বেফাঁস কথাবার্তা আর কর্মকাণ্ডে বিএনপি বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এর আগে, ১৬ এপ্রিল সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে বির্তকিত ও সমালোচনায় পড়েন খালেক। এ ধরণের সংবধর্ণা দেয়ায় জেলাজুড়ে সমালোর ঝড় উঠে।
তার আগে, গেল বছর ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেক বলেন “আমরা কখনো চাইনা বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। বিএনপি হলো একটা ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এরা গণতন্ত্র বুঝে না, এরা নির্বাচন বুঝে না। এরা জনগণের মনের বাসনা বুঝে না, এরা বুঝে ক্ষমতা। তাদের ক্ষমতা দরকার। নির্বাচন-টির্বাচন গণতন্ত্র এগুলোর ধার ধারে না তারা।” যদিও পরে বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
খালেকের এ ধরণের কাণ্ডে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।