শুক্রবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, কেউ কেউ দাবি করেন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই। তাদের উদ্দেশে সত্যিই কী বলা উচিত, তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছি এবং আমাদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।’
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদারের পরিকল্পনার কথা জানানোর কয়েকদিন পর পেজেশকিয়ান এসব মন্তব্য করেন। গত সোমবার বেসেন্ট মার্কিন কৌশলকে ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ব্যর্থ হবে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপগুলো মূলত ২০১৮ সাল থেকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কাঠামোরই অংশ। ওই বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পরবর্তীতে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।
পেজেশকিয়ান জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের আমদানি ও রপ্তানি ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বাণিজ্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহ ও অভ্যন্তরীণ পেট্রোলের দামেও। বাণিজ্য কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পেট্রোলের দাম সমন্বয়ের কথা বলেছেন পেজেশকিয়ান। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবহারের তৃতীয় স্তরের কোটায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, তৃতীয় স্তরের কোটার দাম বাড়ানো উচিত। উদাহরণ হিসেবে ৫ হাজার তোমান থেকে ১০ হাজার তোমানে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানে ভোক্তাদের জন্য পেট্রোলের দাম নির্ধারণে বহুস্তরীয় মূল্যব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিষয়টি দেশটির জন্য রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক দেশ হওয়ায় ইরানে দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফর কায়েমপনাহ জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় পেট্রোল আমদানি করতে তেহরানকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে খাটো করে বলেছিলেন, এসব পদক্ষেপ ইরানের অবস্থান পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে না।
তবে সর্বশেষ মন্তব্যে তিনি স্বীকার করলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি সংকট ইরানের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং দেশটি গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ