রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম কমা। এ সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে— যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে আগের বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ।
অপরদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে— যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের মার্চে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল আরও বেশি, ৯.৭০ শতাংশ।
গ্রাম ও শহরে কমেছে মূল্যস্ফীতি
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাম ও শহর— উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। গ্রামাঞ্চলে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশে— যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.২১ শতাংশ। গত বছরের মার্চে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪১ শতাংশ।
গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩৪ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৬৮ শতাংশে নেমেছে।
শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮.৫৭ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মজুরি বাড়লেও প্রকৃত আয় এখনও কম
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ।
তবে মূল্যস্ফীতি এখনও মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে বেশি থাকায় শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় পুরোপুরি বাড়েনি। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, তখন মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯৩ শতাংশ। ফলে দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টে। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।