নির্মল কুমার মালাকারের জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪ সাল। তার স্থায়ী ঠিকানা মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের বরালিদহা গ্রামে তার পিতার নাম মৃত নরেন্দ্রনাথ মালাকার ও মাতার নাম রেনু বালা মালাকার।
গত ৩ জুলাই ২০২২ সালে ৮ নং নাকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমাউনুর রশিদ মুহিত সাক্ষরিত তারিখে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রস্তুত করা হয়। জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার আইডি কার্ড ইস্যুর তারিখ ১০ মার্চ ২০১৮ সাল। রামনগর হরিপদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাড়পত্র ১৯৯৫ হইতে ১৯৯৭ পর্যন্ত অত্র বিদ্যালয় পড়ার কথা বলে যাবতীয় পাওনা ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ ইংরেজি তারিখে মেটায়। যেখানে ঘ অপশন নেই আর প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র বিশ্বাসের সীল ও স্বাক্ষর লেখা হয় ২৭ এপ্রিল ২০০৬ সাল।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ৬, কাওরান বাজার ঢাকা থেকে পাওয়া প্রবেশ পত্রে পদের নাম এম.এল.এস.এস অথবা নিরাপত্তা প্রহরী। প্রার্থীর রোল নম্বর ৩১৭৭৮৭ লিখিত পরীক্ষার ভেন্যু খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা। এই প্রবেশপত্রে ১৭ জানুয়ারি ২০১২ সালে সত্যায়িত করে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর সহযোগী অধ্যাপক গণিত অসীম কুমার সাহা।
মাগুরা পুলিশ সুপার কার্যালয় জেলা বিশেষ শাখা উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পরিবার পরিকল্পনা মাগুরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ভি.আর প্রতিবেদন ২৩ অক্টোবর ২০১৯ খ্রি: জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ১৪৭৩১২১২৯৯ দাখিলকারী এএসআই (নিঃ) মিরন, মাগুরা জেলা বিশেষ শাখা।
উপ-পরিচালক কার্যালয় পরিবার পরিকল্পনা ফরিদপুর পরিচালক (প্রশাসন) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঢাকা অত্র জেলার অনুকূলে ১২ জন এমএলএসএস অথবা নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে নির্মল কুমার মালাকার যোগদানের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১২ জাহাপুর ইউনিয়ন, উপজেলা মধুখালী, ফরিদপুর।
ডাঃ মোড়ল ইয়াকুব আলী উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পরিবার পরিকল্পনা ফরিদপুর স্বাক্ষরীত। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঢাকা অফিস আদেশে১৪ আগস্ট ২০১৩ সালে নির্মল কুমার মালাকার কে কামারখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র মধুখালী ফরিদপুর থেকে বদলিকৃত কর্মস্থল সব্দালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র শ্রীপুর মাগুরা।
স্বাক্ষর অজয় রতন বড়ুয়া সহকারী পরিচালক (পার-১) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ৬ কাওরান বাজার ঢাকা নিয়োগ পত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭৭৪০ টাকা বেতন ক্রমে রাজস্ব খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে এমএলএসএস অথবা নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগ পায়। এখানে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখিত নির্মল কুমার মালাকার, পিতা- নরেন্দ্র মালাকার, গ্রাম- তাতিপাড়া, ডাকঘর- সদর মাগুরা, মাগুরা।
রামনগর হরিপদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী রজব আলী শেখ জানান নির্মল কুমার মালাকারের ৮ম শ্রেণী ছাড়পত্রে আমার সাক্ষর নেই। আর আমি ১৯৮৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছি স্কুলে তৎকালীন সময়ে ৮ম শ্রেণি ছাড়পত্রে ক, খ, গ ও ঘ এই চারটি অপশন থাকতো আমি ঘ অপশনে প্রধান সহকারী সিল ও সাক্ষর দিয়ে ক্লাস ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তির সাল হতে ৮ম শ্রেণির সাল লিখে দিতাম এবং রেজিস্ট্রার ভর্তি বহির পাতা ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করে দিতাম কিন্তু নির্মল কুমার মালাকারের ৮ম শ্রেণির ছাড়পত্র ২০০৬ সালে আমার সীল ও সাক্ষর নেই এবং সাক্ষর দেখলাম প্রধান শিক্ষকের সই ও সীল মারা। এটা সম্পূর্ণ জালজালিয়াতি করে তৈরি করা। এটা আমি কখনও দেয়নি।
আর শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের বরালিদাহ, রাধানগর সহ দূরের ছাত্র-ছাত্রীরা এই স্কুলে পড়তে আসতো না। যেহেতু আমি বহুবছর চাকরি করেছি তাই এই নামের লোক এখানে কখনও পড়েনি। আর আমি ১৯৭০ সাল থেকে ২০২১ সালের সমস্ত ভর্তির খাতা বুঝে দিয়ে এসে ছিলাম। আর এই সমস্ত জালজালিয়াতি সার্টিফিকেট তৈরি করে দিতো টাকার বিনিময়ে মধুপুর স্কুলের অফিস সহকারী সুশান্ত গয়ালী বাবু তার কিছু নমুনা আমরা তৎকালীন সময়ে পেয়েছি এবং আমাদের স্কুলের নাম ব্যবহার করে জালজালিয়াতি ছাড়পত্র তৈরি করেছে।
রামনগর হরিপদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলোকা বিশ্বাস জানান, ১৯৯৫ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির রেজিস্ট্রার ভর্তি খাতা ২০১৫ সালে চুরি হয়ে গেছে আমাকে সাতদিন সময় দেন খাতা খুজে দেখি।
এবিষয়ে এলএমএসএস/নিরাপত্তা প্রহরী নির্মল কুমার মালাকার বলেন, আমার সবকিছু ঠিক আছে আপনি আমার বিরুদ্ধে যা কিছু তাই করেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না চাকরি চলে গেলে ভ্যান, রিকসা ও মাঠে জনদেব এবং আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো এবং দেখো নেবো।
মাগুরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় উপপরিচালক গাজী বশির আহমেদ জানান, নির্মল কুমার মালাকারের অভিযোগ গুলো লিখিত আকারে আবেদন করে জমা দেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সহসভাপতি সাহেব আলী জানান, সরকারি বা বেসরকারি চাকরির শর্তাবলী হলো শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে গড়মিল হলে তাৎক্ষণিক ভাবে বা ভবিষ্যতে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে ভবিষ্যতে কোন গড়মিল প্রমাণিত হলে এ নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।
মোটকথা সরকারি চাকরি ২০ গ্রেড জাতীয় বেতন স্কেল থেকে শুরু করে ১ গ্রেড মধ্যে সরকারি চাকুরীজীবীর জালজালিয়াতি পন্থা প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মহাপরিচালক সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্মল কুমার মালাকারকে প্রতারণা ও জালিয়াতির কারণে চাকরি বিধি ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা ও চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিবে এবং জালিয়াতির কারণে সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে জরিমানা দিতে হবে। অসৎ পন্থার পায়তারার এমনকি সরকার ইচ্ছে করলে জেল দিতে পারে।