রোববার (৭ জুন) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করার পর তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে একটি স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, লাওস বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশটির নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে বিপুল শ্রমশক্তির চাহিদা বিদ্যমান। এরইমধ্যে কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক লাওসের ভিসা লাভ করেছেন এবং বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশগমনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, বর্তমানে লাওসের ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক ভিসাধারী কর্মী বিদেশ যেতে পারছেন না।
প্রতিনিয়ত অনেক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে কর্মীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কর্মসংস্থানের মূল্যবান সুযোগ হারাচ্ছেন। অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা আশঙ্কা করছি, লাওসের ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় পক্ষের অযাচিত প্রভাব বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে, যা সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অন্যান্য দেশ এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে লাওসে ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। তাই বাংলাদেশের জন্য এই শ্রমবাজারে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রবেশ করা অত্যন্ত জরুরি। লাওসের শ্রমবাজার চালু হলে, দেশের বেকারত্ব হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক, ভিসাধারী কর্মী ও তাদের পরিবার আজ আপনার (প্রতিমন্ত্রী) হস্তক্ষেপ কামনা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার আন্তরিক উদ্যোগে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং বাংলাদেশের জন্য লাওসের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে।
অতএব, লাওসগামী ভিসাধারী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লাওসের ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।