মামলার সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার তবকপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে একই পদে মামলার বাদী স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪১) ও স্বামী এনামুল হক সরকার মানিক কর্মরত রয়েছেন। ২০১৮ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর এনামুল হক ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নাসিমাকে নির্যাতন শুরু করেন। পরবর্তীতে নাসিমা বেগম ২০২২ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন। এরপর এনামুল হক মামলাটি আপোষ মীমাংসা করে নেন। পরবর্তীতে দুজনে ঘর সংসার করলেও পুণরায় ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে আবারও নাসিমা বেগমকে নির্যাতন শুরু করেন এনামুল হক।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয় চলাকালীন মধ্য বিরতির সময় এনামুল হক যৌতুকের দাবিতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী নাসিমা বেগমের চুলের মুঠি ধরে এলোপাথারী মারপিট শুরু করেন এবং গলা চেপে ধরে হত্যা চেষ্টা করেন। এসময় অন্যান্য শিক্ষকগণসহ আশপাশের মানুষ তাদেরকে ক্ষান্ত করে নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরবর্তীতে নাসিমা বেগম কিছুটা সুস্থ্য হয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই এনামুল হক সরকার মানিককে গ্রেপ্তার করেন।
তবকপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা বেগম বলেন, এনামুল হক সরকার মানিক ও নাসিমা বেগম স্বামী-স্ত্রী। তারা উভয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। নাসিমাকে নির্যাতন করার অভিযোগে মানিক স্যারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা( টিও) নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষযে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সোমবার থানায় মামলা হলে রাতেই অভিযান চালিয়ে এনামুল হক সরকার মানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃত মানিককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।