রোববার (১০ মে) বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে ৬ মে তিনি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ নোটিশ জারি করেন। এতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ জন শ্রেণি শিক্ষকের সই নেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান ও এহতেশাম মিল্টন কোচিং চালু করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়ায়। ৭-৮ বছর আগে তখনকার ইউএনও তাদেরকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে তারা মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। তখন তারা আর কোচিংয়ে পড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ইউএনও পরিবর্তন হলে তারা আবার চালু করেন কোচিং। নজরুল নিজেও পড়ান, তার ছেলেকে দিয়েও কোচিংয়ে পড়ান। সরকারি নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা করছেন না তারা।
নোটিশে জানানো হয়, শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বন্ধ করতে সরকার ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশ দেয়। পড়ালেখার গুণগত মান ফিরিয়ে আনাসহ শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা এবং শিক্ষকদেরকে ক্লাসে অধিকতর মনোযোগী করতে এ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তা অবমাননা করে প্রাইভেট ও কোচিং চলমান রেখেছেন।
এতে আরও বলা হয়, বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়েল বাইরে নোটিশ জারির পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কোচিং পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অবমাননাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে পরিবর্তন সনদ (টিসি) দেওয়া হবে।
তবে, সরকারি বিধি অনুযায়ী দুর্বল শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রধান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকগণ অতিরিক্ত ক্লাস করতে পারবে। এটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা পাঠদান মনিটরিং এবং রেকর্ড করা হবে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বদরুল হোসেন বলেন, গত বছর অক্টোবরেও একবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কোচিং বন্ধ করা হয়নি। এজন্য নতুন করে আবারও নোটিশ দেওয়া হয়। সকাল থেকে শুরু করে নজরুল ও মাহবুব তারা কোচিং বাণিজ্য করে আসছেন। বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ও পৃথকভাবে ইউএনওকেও জানিয়েছি। আমি এ ঘটনায় স্বোচ্চার। এটি বন্ধ করতে হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে কল দিয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও আসার কথা রয়েছে।