কর্মসূচির আগে সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের বেদিতে প্রতীকী আদালত বসানো হয়। সেখানে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সাক্ষী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আসামির কাঠগড়ায় প্রতীকী আসামিদের উপস্থিতি দেখানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ মহিপালের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত সাক্ষ্য ও আলোকচিত্র উপস্থাপন করলে প্রতীকী আদালত শেখ হাসিনা, নিজাম উদ্দিন হাজারী, আলাউদ্দিন নাসিম, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, শুসেন চন্দ্র শীল ও স্বপন মিয়াজির বিরুদ্ধে প্রতীকী ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। পরে তাঁদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।
ফেনী জেলা বিএনপি'র আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। একইভাবে নিজাম হাজারীও দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঢোকার সবচেয়ে কাছের জায়গা বিলোনীয়া। সেখানে আমরা মালা নিয়ে অপেক্ষা করব। আসুন, আপনাদের যথাযথ ‘‘মেহমানদারি’’ করা হবে।’
শেখ ফরিদ বাহার আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে নিজাম হাজারী ও তাঁর অনুসারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ওই সময় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হলেও নিজাম হাজারীর অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলার অগ্রগতি এবং ফেনীর হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো এখনো ট্রাইব্যুনালে যায়নি বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু তালেব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দেখতে চায় ফেনীবাসী। জেলা ছাত্রদলের প্রতীকী বিচারের মতো বাস্তবেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তার মাধ্যমে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে জেলা বিএনপি উদ্যোগ নেবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, এয়াকুব নবী, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এস এম কায়সার এলিন, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত, যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল, শওকত আলী জুয়েল পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকের হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।