দলীয় সূত্রের দাবি, প্রয়োজনে নতুন কোনো ফুলকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ধরে রাখতে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, প্রতীক হারালেও তিনি থেমে থাকবেন না; নতুন প্রতীক নিয়েই মানুষের কাছে যাবেন। দলীয় ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, সেই বিকল্প পরিকল্পনাও অনেকটা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল কংগ্রেস।’ তার দাবি, দল সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং প্রতীকের চেয়ে মানুষের কাছে মমতাই বড় পরিচয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতীক কেবল ভোটের চিহ্ন নয়; এটি একটি দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভোটারদের আবেগেরও প্রতীক। ১৯৯৭ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়েই রাজনৈতিক লড়াই করে টানা তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই প্রতীক নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকেই দলীয় সাংগঠনিক ও আইনগত নথি জমা দিতে বলেছে। কালীঘাটপন্থী শিবির দাবি করেছে, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে জমা দিয়েছে। তবে ঋতব্রত শিবিরের সব নথি এখনো জমা হয়নি বলে জানা গেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল বিভক্ত হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সাংগঠনিক কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন যে পক্ষের থাকবে, সাধারণত দলীয় নাম ও প্রতীকের দাবিতে সেই পক্ষই অগ্রাধিকার পায়।
তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাংসদ সৌগত রায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাদের পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা দিলেও অপর পক্ষকে একাধিকবার অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব নথি জমা দিয়েছেন। এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে। বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।