রোববার (১২ এপ্রিল) আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাকে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যাচেষ্টা ও চারটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ বলেন, অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেন, “আমরা জামিননামা দাখিল করব। কারাগারে পৌঁছালেই আজ অথবা কাল তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশা করছি।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, তিনি জামিন পেয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী কারামুক্ত হবেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে শিরীন শারমিন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার জানান, আদালত থেকে জামিন হলেও মুক্তির জন্য মূল জামিননামা কারাগারে পৌঁছাতে হবে। সেটি হাতে পেলেই মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, অন্য কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা পরোয়ানা থাকলে সে অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে। তবে বর্তমানে জামিননামা না পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, শিরীন শারমিন গুরুতর অসুস্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বঞ্চিত। অন্যদিকে আদালতে শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুরে আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম গুলিবিদ্ধ হন। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়।