ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ছিল ৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ইউরোতে।
শুধু রপ্তানি আয়ই নয়, কমেছে বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্যও। ইইউ বাজারে প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ১৫ দশমিক ৪৫ ইউরো থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪ ইউরোতে, যা প্রায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হ্রাস।
বিশ্ববাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমে গেলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় বেশি দুর্বল বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আলোচ্য সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার চেয়েও অনেক বেশি।
প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পতন হয়েছে শুধু তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার। তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে চীন মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ পতনের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল ভিয়েতনাম, যেখানে রপ্তানি কমেছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ শুধু কম দামে পণ্য বিক্রি করছে না, একই সঙ্গে কম অর্ডারও পাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় পতন ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে অনেক দেশ এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে গেছে।
তার ভাষায়, ইউরোপে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে ক্রেতারা অর্ডার কমাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নীতিগত অস্থিরতা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও মনে করেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত এখনও কম দামের বেসিক পণ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল। বিপরীতে ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে জোর দিচ্ছে। ফলে তারা বাজারে ভালো অবস্থান ধরে রাখতে পারছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু কম শ্রমমূল্যের সুবিধা দিয়ে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এজন্য বাংলাদেশকে ম্যানমেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।