বার্তা সংস্থা এএফপি-র পক্ষ থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় যে, তেহরানকে সমঝোতায় রাজি করাতে বেইজিং জড়িত ছিল কি না; ট্রাম্প সরাসরি জবাবে বলেন, ‘আমি শুনেছি হ্যাঁ, তারা এতে যুক্ত ছিল।’ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস ইরানের তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় চীন শেষ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে ইরানকে ‘নমনীয়তা দেখাতে এবং উত্তেজনা কমাতে’ অনুরোধ জানায়। চীনের এই অনুরোধের পরই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেয় ইরান।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অনুমোদন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং যুদ্ধের শুরুতে তিনি আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা এবং ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুদ্ধের সময় ওই দেশগুলোতে ইরানের হামলার সমালোচনাও করেছে বেইজিং। অন্যদিকে, ট্রাম্প মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এর আগে এপ্রিলে নির্ধারিত ওই সফর স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্প সে সময় বলেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হবে।’
যুদ্ধে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে গেলেও যুদ্ধের কারণে তা ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে।