বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Channel18

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রেশে মিসাইলের নিচে চাপা ‘রক্তের পরিসংখ্যান’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রেশে মিসাইলের নিচে চাপা ‘রক্তের পরিসংখ্যান’

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে আগুন জ্বলছিল, তা শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের আগুন নয়—এটি মানবতা ধ্বংসের অদ্ভূত এক অগ্নিগর্ভ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া এই সংঘাতে সীমান্ত, রাষ্ট্র, পরিচয়—সবকিছু ছাপিয়ে গেছে মানবতার করুণ মৃত্যু। সংঘাত থামলেও মানবদেহের ভস্মিভূত গহবরে এখনো উড়ছে আঁশটে ছাইয়ের ধোঁয়া। সংখ্যাগুলো ঠান্ডা। নির্মম। নির্লিপ্ত। কিন্তু এই সংখ্যার ভেতর লুকিয়ে আছে হাজারো গল্প, হাজারো কান্না।

সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে ইরান—৩৬৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিটি সংখ্যা যেন একটি করে নিভে যাওয়া প্রদীপ, একটি করে ভেঙে যাওয়া পরিবার। লেবাননে নিহত হয়েছেন ১৫৩০ জন—যেখানে প্রতিটি মৃত্যু মানে একেকটি ঘরের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া। ইরাকে ১১৭ জন, ইসরায়েলে ৩৪ জন, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে—প্রতিটি দেশে ১৩ জন করে নিহত। কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এই তালিকা এখানেই থেমে নেই। বাংলাদেশে ৬ জন, ফিলিস্তিনে (পশ্চিম তীর) ৪ জন, সিরিয়ায় ৪ জন, বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে ২ জন করে এবং ফ্রান্সে মারা গেছেন ১ জন।

খবরের পাতায় এই সংখ্যাগুলো খুব ছোট হয়ে যায়। আমরা দেখি চারটে সংখ্যা-৩৬৩৬, ১৫৩০ কিংবা ৬। কিন্তু ভাবি না, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি করে জীবন, একটি করে গল্প। কেউ হয়তো সকালে কাজে বের হয়ে আর ফেরেনি, কেউ হয়তো শেষবারের মতো মায়ের কণ্ঠ শুনেছিল ফোনে, কেউ হয়তো জানতই না, এই দিনটিই তার জীবনের শেষ দিন। যুদ্ধ কখনো জিজ্ঞেস করে না—তুমি কোন দেশের, কোন ধর্মের, কী স্বপ্ন দেখো। যুদ্ধ শুধু নিতে জানে- একটি জীবন, একটি স্বপ্ন, একটি পরিবার।

এই তালিকার মধ্যে বাংলাদেশের ৬ জন নিহত হওয়ার খবর যেন আলাদা করে কাঁপিয়ে দেয় হৃদয়। কারণ এই ছয়জন ছিল আমাদেরই মানুষ—আমাদের ভাষা, আমাদের মাটি, আমাদের স্বপ্নের অংশ। তারা কেউ যুদ্ধ করতে যায়নি। তারা গিয়েছিল রুটি-রুজির সন্ধানে, পরিবারের জন্য ভালো একটা ভবিষ্যৎ গড়তে। হয়তো তাদের কারও সন্তান অপেক্ষা করছিল বাবার ফেরার, কেউ হয়তো নতুন ঘর বানানোর টাকা জমাচ্ছিল, কেউ হয়তো ঈদের আগে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ, একটি মুহূর্ত—সবকিছু মিলিয়ে দিয়েছে শেষের গল্পে। তাদের ঘরে ফিরে গেছে শুধু খবর— একটি মৃত্যুসংবাদ, একটি অপরাহ্নের সমাপ্তি; যে সূর্য আর ওঠবে না।

যুদ্ধের শেষে হয়তো কেউ বলবে—এই দেশ জিতেছে, সেই দেশ হেরেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই যুদ্ধে জিতেছে কেবল হিংসা, প্রতিহিংসা, ক্ষমতার অন্ধ লড়াই। হারিয়ে গেছে মানবতা। হারিয়ে গেছে সেই পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে বাঁচাতে চায়। একটি শিশু যখন ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে বাবাকে খোঁজে, একজন মা যখন সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদে, একজন প্রবাসী যখন ঘরে ফেরার আগেই মাটির নিচে চলে যায়— তখন কোনো বিজয় নেই। এই যুদ্ধ আবারও আমাদের শেখাল— মানচিত্রের রেখা মানুষকে আলাদা করে, কিন্তু অশ্রুবিন্দুর উষ্ণতা সকলেরই এক। সংখ্যাগুলো হয়তো একদিন বদলে যাবে, নতুন খবর আসবে, নতুন শিরোনাম হবে। কিন্তু যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনো পূরণ হবে না। এই যুদ্ধে জিতে গেছে হিংসা-প্রতিহিংসা, আর হেরে গেছে মানবতা— নিঃশব্দে, নিরুপায়ভাবে, রক্তের স্রোতে ভেসে।

আরও

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের স্বস্তি, তবে শক্তিশালী অবস্থানে ইরান

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের স্বস্তি, তবে শক্তিশালী অবস্থানে ইরান

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে এক ‘নতুন স্বর্ণযুগের বিজয়’ হিসেবে উদ...

২০২৬-০৪-০৮ ১৮:৫৭

খুলে দেওয়া হলো হরমুজ, শুরু হলো জাহাজ চলাচল

আন্তর্জাতিক

খুলে দেওয়া হলো হরমুজ, শুরু হলো জাহাজ চলাচল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির পর খুলে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই দেশ যুদ্ধব...

২০২৬-০৪-০৮ ১৮:২৪

শেহবাজের এক্সবার্তা কি অন্য কেউ লিখে দেন, প্রশ্ন ফোর্বসের

আন্তর্জাতিক

শেহবাজের এক্সবার্তা কি অন্য কেউ লিখে দেন, প্রশ্ন ফোর্বসের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি এক্সপোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তু...

২০২৬-০৪-০৮ ১১:২৯

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে পাকিস্তানে আসার নিমন্ত্রণ দিলেন শেহবাজ

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে পাকিস্তানে আসার নিমন্ত্রণ দিলেন শেহবাজ

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান...

২০২৬-০৪-০৮ ১১:১৫