ইরনার বরাতে আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, আকরামিনিয়া বলেন, ‘অতীতে আমাদের দেশের সামরিক নীতি ছিল প্রতিরক্ষামূলক, কিন্তু এই দুটি যুদ্ধের সময় (২০২৫-এর ১২ দিনের এবং ২০২৬-এর ৪০ দিনের যুদ্ধ) আমরা ধীরে ধীরে সামরিক মতবাদকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যেতে দেখেছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আক্রমণাত্মক মতবাদের অর্থ এই নয় যে আগাম অভিযান চালানো হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে প্রবেশের আগে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তেহরান।
ওই হামলায় মার্কিন সরঞ্জাম, স্থাপনা ও সেনাদের ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়েছিল বলেও দাবি করেন আকরামিনিয়া। তিনি বলেন, ‘আক্রমণাত্মক সামরিক নীতির আরেকটি দিক হলো যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক জবাব দেয়া। ইরানের জবাব প্রাথমিক হামলার চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে।’
আকরামিনিয়ার মতে, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক সামরিক নীতি থেকে আক্রমণাত্মক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি যুদ্ধে হামলার দ্রুত ও বিস্তৃত জবাব এবং আগাম অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার
ইরানের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান হলে মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার দেয়ার একটি পরিকল্পনা সেনাবাহিনী তৈরি করেছে বলেও জানান আকরামিনিয়া।
তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য অথবা আইনগতভাবে শিকারের অস্ত্র রাখেন—এমন বেসামরিক ব্যক্তি ইরানে প্রবেশকারী মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পাবেন। কোনো নারী এ কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) হবে বলেও জানান তিনি।
আকরামিনিয়া বলেন, ব্যবহৃত অস্ত্রটি তার বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দামে কিনে মালিকের নামে সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে একই ধরনের একটি বিকল্প অস্ত্র দেয়া হবে।