যুদ্ধের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।
শুক্রবার ভোরে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এফ-১৫ মডেলের এই বিমানে সাধারণত দুজন ক্রু থাকেন। দুর্ঘটনার পরপরই পেন্টাগন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযান শুরু করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানের একজন পাইলটকে প্যারাশুটে নামার পর দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী। তবে দ্বিতীয় ক্রু—অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা—দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়েন।
নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে রাতের আঁধারে ইরানে প্রবেশ করা মার্কিন স্পেশাল ফোর্স সদস্যরা ইরানের বর্ডার পুলিশ ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তাদের লক্ষ্য করে হালকা অস্ত্র ও ভারী মেশিনগান থেকে গুলি চালানো হয়।
এ সময় একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে সেটি কোনোভাবে ইরাক সীমান্তে গিয়ে জরুরি অবতরণ করে।
এদিকে ইরান এই ঘটনাকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে জীবিত বা মৃত আটক করতে পারলে তা বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে তেহরান। এ লক্ষ্যে ওই সেনাকে ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরস্কারের আশায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মিলিশিয়ারা পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা সংঘাতকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে, ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।