ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) জরুরি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মানবিক করিডোর নিয়ে গুরুতর ও জরুরি আলোচনার সময় হয়েছে। অন্তত আমরা যাতে মানবিক কেন্দ্রগুলোতে আটকে থাকা জরুরি সামগ্রীগুলো গন্তব্যে পাঠাতে পারি।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে অনেক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রাখতে হতে পারে।
তেলের উচ্চমূল্য কেবল সাধারণ মানুষের জীবনই দুর্বিষহ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে। সংস্থাটির পরিচালক সিসিল তেরাজ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবন এবং আমাদের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে এর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১১ ডলার। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও ওষুধের সরবরাহ কমেছে এবং ব্যয় বেড়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল সাপ্লাই ডিরেক্টর উইলেম জুয়েডমা বলেন, আমরা দুই দিক থেকেই চাপে আছি। একদিকে বিশ্বনেতারা সহায়তার বাজেট কাটছাঁট করছেন, অন্যদিকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও প্রতিটি ওষুধের কিটের দাম বাড়ছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার বাড়লে তাদের শিপিং, জ্বালানি ও খাদ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার খরচ হয়। তেলের দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকলে এ বছর সংস্থাটির অতিরিক্ত ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ হবে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩ কোটি ১৮ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর বাইরে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। ডব্লিউএফপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
পরিবহন সংকট কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় ডব্লিউএফপির খাদ্য পরিবহনের উদাহরণে। ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে ওমান হয়ে লোহিত সাগর দিয়ে সুদানে পণ্য পরিবহনের প্রচলিত পথটি এখন আর নিরাপদ নয়। ঝুঁকি এড়াতে এখন জাহাজগুলোকে কেপ অব গুড হোপ হয়ে ভূমধ্যসাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে পথ বেড়েছে ৯ হাজার কিলোমিটার এবং সময় লাগছে কয়েক সপ্তাহ বেশি।
আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতেও খাদ্য ও ওষুধের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশে ব্র্যাক জানিয়েছে, জ্বালানির সংকটের কারণে তাদের কর্মীরা সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করছেন, যা শরণার্থী এলাকায় তাদের সেবার সময় কমিয়ে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্সি কোরের নিক জোনস-ব্যানিস্টার। তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ বীজ ও সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সারের অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে ব্যর্থ হলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তিনি বলেন, ‘এর প্রভাব পড়বে গৃহযুদ্ধ ও অভিবাসনের ওপর।’