বিএসসি সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে সেই অনুমতি মেলেনি। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ফিরে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পানি ব্যবহার কমিয়ে দৈনিক ৬ টনে নামানো হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ‘ওয়ার অ্যালাউন্স’ দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসি জানায়, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষে কুয়েতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।