বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে ৩১টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিল আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও তিনটি বিল অধ্যাদেশ রহিত করে পাস করা হয়।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হলে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করে। তবে শেষ পর্যন্ত বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও ‘গণবিরোধী’ বিল পাস করা হয়েছে, যার দায় তারা নেবেন না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ আইনে নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আইন সংশোধন না হলে ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও জানান, সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিল পাসের সব ধাপে বিরোধীরা অংশ নিয়েছেন। তাই পরে ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরদিন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিবেশনের ১৩তম কার্যদিবসে আরও ১০টি বিল পাস হয়। সকালে উত্থাপিত এসব বিলে কোনো সংশোধনী না থাকায় আলোচনা ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদের বিশেষ কমিটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া চারটি বাতিল এবং ১৬টি নতুনভাবে বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দুই দিনে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় সরকার, শ্রম, টেলিযোগাযোগ, গ্যাস, মানবাধিকার, বন ও পরিবেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল।