এ সময় ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা, উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাশ গুপ্ত, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বিরসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ফেনীর লেমুয়া ও ধলিয়া ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল কালীদাস পাহালিয়া নদীর ওপর নির্মিত লেমুয়া ব্রিজ। পাকিস্তান আমলে তৈরি স্টিলের ব্রিজটি অকেজো হয়ে যাওয়ার পর বছরের পর বছর কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণসহ নানা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ২০২৩ সালে স্টিলের ব্রিজের অবশিষ্ট অংশ খুলে সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
ফেনী সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৮৫ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবুল চৌধুরী বলেন, ২০২৩ সালে কাজ শুরু করার পর ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। এর কিছুদিন পর ফেনীতে ভয়াবহ বন্যায় নির্মাণসামগ্রী ভেসে যায়। অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিজটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে জনচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
লেমুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো. ফেরদৌস কোরাইশী বলেন, কালীদাস পাহালিয়া নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর এলাকার কৃতিসন্তান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব ও আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ হাসান আহমেদ এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য তদ্বির শুরু করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এখানে ব্রিজটি নির্মাণ হয়। এ ব্রিজটির পাশেই ফেনীর প্রাচীনতম লেমুয়া বাজার রয়েছে। ব্রিজটির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে এবং যোগাযোগের ভোগান্তি দূর হবে।