বার্তার সঙ্গে ৩৫ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালির ত্রিমাত্রিক মানচিত্র দেখানো হয়েছে, যেখানে জনপ্রিয় ‘মাইনসুইপার’ খেলাটির আদলে সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানে মাইন খোঁজার দৃশ্য রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রোববার হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই অস্ত্র ব্যবহার করে ইরান জলপথে নতুন করে মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে সমুদ্রের মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো জাহাজ বা নৌকা নতুন করে মাইন স্থাপন করলে সেটি ধ্বংস করা হবে।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হলেও জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
চলতি মাসে এটি ছিল ইরানের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হামলা চালানোয় ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি এই অত্যন্ত ন্যায্য হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত করে, তাহলে তাদের আরও কঠোরভাবে এবং আরও বড় মাত্রায় আঘাত করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও আক্রান্ত হয়েছে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স বলেন, ‘ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে আসা প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।’
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোকে নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ট্রাম্প। এ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ এরই মধ্যে ছয় মাস পেরিয়েছে।