আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস (২৬) ও তায়েব মাতুব্বর (২৭)। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের অভিযোগে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ধারায় দেওয়া সাজা আসামিরা একই সঙ্গে ভোগ করবেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশ থেকে মুখে রুমাল চেপে মাইক্রোবাসে তুলে নেন মোহন ও তায়েব। পরে চলন্ত মাইক্রোবাসে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়কে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাঁকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান তাঁরা।
পরদিন ৯ আগস্ট কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ মণ্ডল ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।