সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার একতার বাজার সংলগ্ন ঢেকির বিল পূর্ব পাশে ও বামনির বিলের পশ্চিম পাশে এই ভেলামারী বিল অবস্থিত, পাঁচগাছি, পাইকান, জাহাঙ্গীরাবাদ, পাচকাউনি, আমোদপুর, কাজিপাড়া, নাইয়াপাড়া ও কুলুবনসহ আশপাশের অন্তত ৯টি গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুম এলেই পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালীদের জমির ওপর কালভার্ট থাকায় এবং অনেকেই সেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা এলেই গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। একতার বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলহেরা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মাঠে বর্তমানে হাঁটু সমান পানি। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
কৃষিতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তারা আমন ধানসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ করতে পারছেন না। বছরের পর বছর শুধু ইরি ধানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি অনেক পরিবারের বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাসের চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানো যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্ট করছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। কালভার্টের সামনে বাড়িঘর তোলায় আজ আমাদের এই দশা।
আরেক বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। বছরের পর বছর একই সমস্যা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
কৃষক সিদ্দিকুর রহমান মনের আক্ষেপ করে জানান, অতীতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে বছরের পর বছর তাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদা মিয়া বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা নতুন সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, এই সমস্যার পেছনে স্থানীয় সামাজিক বিরোধও একটি বড় কারণ।
তিনি বলেন, ভেলামারি বিল সংলগ্ন দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সমঝোতা না হলে এই পানি নিষ্কাশন করা কঠিন। কারণ এক এলাকার জনগণ পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে রাখে, আবার অন্য এলাকার লোকজন পানি বের করার জন্য ব্রিজ বা রাস্তা খনন করে দেয়। এই দুই এলাকার জনসাধারণ সচেতন এবং সমঝোতায় না আসলে এটি স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুতই বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।