তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর হলো, ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরির গ্রাহকদের জন্য আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা আগের হারেই বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির আগেই মূল্য সমন্বয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে এবং কমিশন শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশই গ্রহণ করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
বিইআরসির এক কমিশনার জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হলেও ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গ্রাহকদের ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য বিল আরও বাড়বে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর।
এদিকে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন খরচের মধ্যে আবারও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি যেন মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একের পর এক দাম বাড়ানোর চাপে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন নিয়ে হতাশা বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— এভাবে চলতে থাকলে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?