শনিবার (৩০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে সেই সময়ের পরিস্থিতির কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেননি। তড়িঘড়ি করে দেশ ছাড়ার সময় সেই চিঠি তিনি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার কথা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। ফলে খসড়া বা হাতে লেখা অবস্থাতেই চিঠিটি তার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়।
শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে গণভবনের চারপাশে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে জানান, “আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।”
এসময় তাড়াহুড়োর মধ্যে শেখ হাসিনা তার প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরে ফেলে বাইরে বের হয়ে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে গাড়িতে ওঠার আগে সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ব্যাগটি আনার অনুরোধ করেন। সেই ব্যাগটি আনার পর দেখা যায়, এর ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত তিন পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক পক্ষ থেকে নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।