গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাটে এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সোহেল। একই দুর্ঘটনায় তার বাবা মিরাজ ফকির বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সঙ্গে থাকা তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সোহেলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছলে স্বজনদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস। বুধবার রাত থেকেই চরখাককাটা গ্রামের মৃধা বাড়িতে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর ঢল নামে। মরদেহ পৌঁছানোর পর মা ও বোনসহ পরিজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় নেমে আসে এক বিষণ্ন নীরবতা। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহাম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সোহেলকে দাফন করা হয়।
নিহত সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, প্রায় ২০ বছর আগে মিরাজ ফকির কর্মসংস্থানের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান এবং সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বছর পাঁচেক আগে একমাত্র পুত্র সোহেলকেও সঙ্গে নিয়ে যান। সোহেল বাবার পথ অনুসরণ করে একই পেশায় যুক্ত হন। বছর দুয়েক আগে সোহেলের বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ঈদ বোনাস পেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে বুধবার তারা বাড়ির পথে রওনা দেন।
ফারুক ফকির আরও জানান, সোহেলের মা তিন নাবালক কন্যাসন্তান নিয়ে গ্রামেই থাকেন। মিরাজ ও সোহেল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখভাল করার আর কেউ রইল না। এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।