রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া শহরের ব্যস্ত সাতমাথা এলাকায় জিলা স্কুলের প্রাচীরঘেঁষা ড্রেনের তলদেশ থেকে এসব গুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মাটির নিচে কীভাবে এলো এত গুলি?
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাতমাথায় জিলা স্কুলের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছিল। সকালে শ্রমিকরা ড্রেনের তলদেশে মাটি খনন করছিলেন।
একপর্যায়ে প্রাচীরের পাশের মাটি খুঁড়তে গিয়ে শ্রমিকদের চোখে পড়ে কয়েকটি গুলি। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তারা হতভম্ব হয়ে যান। পরে ড্রেন নির্মাণকাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজকে ঘটনাটি জানান।
সিরাজ বিষয়টি জানার পর দেরি না করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচ থেকে পাওয়া গুলিগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলীসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা গুলিগুলো গণনা করেন। গণনা শেষে দেখা যায়, সেখানে এসএমজি রাইফেলের ৩৩৪ রাউন্ড গুলি রয়েছে।
‘পুলিশকে খবর দিই’ ড্রেন নির্মাণকাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজ বলেন, সকালে শ্রমিকরা মাটি কাটছিলেন। এ সময় তারা মাটির নিচে গুলি দেখতে পান। পরে শ্রমিকরা তাকে বিষয়টি জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। তারপর পুলিশ এসে গুলিগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
গুলিগুলো কি ২০২৪ সালের আন্দোলনে লুট হওয়া?
এত বিপুল পরিমাণ গুলি শহরের ব্যস্ততম একটি এলাকার মাটির নিচে কীভাবে এলো এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ড্রেন নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকরা গুলিগুলো দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেছে। গণনায় এসএমজি রাইফেলের ৩৩৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বগুড়া সদর থানা থেকে এসএমজি রাইফেলের কিছু গুলি লুট হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো সেসবের অংশও হতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো কতদিন আগের এবং গুলিগুলো তাজা নাকি অকেজো।
একদিকে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ড্রেনের মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার, অন্যদিকে সেগুলোর সম্ভাব্য যোগসূত্র হিসেবে উঠে আসছে অতীতের একটি অস্থির সময় সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৩৩৪ রাউন্ড গুলি সেখানে কে, কখন এবং কীভাবে রেখে গেল এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।